সচিবালয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক সভা, দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত

ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য দিনক্ষণ ও প্রাথমিক এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে ১৪ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় নিউমুরিং টার্মিনাল বিষয়ক সভা শুরু হয়। এরপর দুপুর ১২টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ সভা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—কার্যক্রমের কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সভায় অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন, খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Investment Development Authority – BIDA)-এর চেয়ারম্যানও। এতে স্পষ্ট, উদ্যোগটি কেবল সামাজিক সুরক্ষার সীমায় আবদ্ধ নয়; অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কাঠামোর সঙ্গেও এর সমন্বয় ভাবা হচ্ছে।

জানা গেছে, একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীকালে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যুতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)-কে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এই কমিটি কার্যক্রমের নীতিমালা, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং তদারকি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থসচিব, তথ্যসচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনাসচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব।

সরকারি সূত্রের মতে, কেন্দ্রীয় ডেটাবেসভিত্তিক এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। এখন নজর সচিবালয়ের আজকের বৈঠকের দিকে—সেখানে চূড়ান্ত রূপরেখা কতটা স্পষ্ট হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ গতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *