সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যেখানে প্রকল্পের কাঠামো, বাস্তবায়ন কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।
সূত্র জানায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে উপকারভোগী নির্ধারণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে আরও সুসংহত করা যায়—এসব বিষয় গুরুত্ব পায় আলোচনায়।
সভায় অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে উপস্থিতির তালিকায়।
এ ছাড়া বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Investment Development Authority)–বিডা (BIDA)-এর চেয়ারম্যান। অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ পরিবেশের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সম্ভাব্য সংযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যুতে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)-কে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এই কমিটি প্রকল্পটির সার্বিক তদারকি ও বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণে কাজ করবে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থসচিব, তথ্যসচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনাসচিব এবং সমাজকল্যাণ সচিব।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট—‘ফ্যামিলি কার্ড’ শুধু একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, বরং সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এটিকে দ্রুত কার্যকর রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।


