আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা আলাদা প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে সারজিস আলম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জামায়াত তাদের অবস্থান থেকে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে নেওয়া শুরু করেছে। একইভাবে এনসিপিও নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পৃথকভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সারজিস আলম বলেন, ‘জামায়াত তাদের জায়গা থেকে বলেছে তারা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে নেওয়া শুরু করেছে। এনসিপিও আমাদের জায়গা থেকে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে শুরু করতে যাচ্ছে।’ তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে—দুটি দল আপাতত নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের পথেই হাঁটছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি ১১-দলীয় জোটভুক্ত হয়ে ভোটে অংশ নিয়েছিল। সে সময় দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক জোট নয়; বরং নির্দিষ্ট নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত একটি জোট। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ রাখছেন না সারজিস আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যদি শেষ মুহূর্তে ১১-দলীয় জোট এক হয়ে স্থানীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি স্থির নয়—সময় ও প্রেক্ষাপটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
প্রস্তুতির দিক থেকেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করতে চায় এনসিপি। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা এবং ৩৩০টি পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ সামনে এল। জোটগত সমীকরণ টিকে থাকবে, নাকি দলগুলো নিজ নিজ শক্তিতে মাঠে নামবে—এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গেই।


