পিলখানার রক্তাক্ত হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের ১৭ বছর: বিডিআর নাম-ইউনিফর্ম পুনর্বহালের পথে সরকার

রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত নৃশংস সেনা হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডে’\র ১৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। শোকাবহ এই দিনটি এবার প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের দাবি ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে একইসঙ্গে সরকার বাংলাদেশ রাইফেলস (Bangladesh Rifles)–এর নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহালের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (Border Guard Bangladesh) নামে পরিচিত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বিজিবিকে পুনরায় বিডিআর নামে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রস্তাব উত্থাপিত হলেই ফাইল প্রক্রিয়াকরণ শুরু হবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক দিক স্পষ্ট হলেও প্রশাসনিক ধাপ এখনো বাকি।

নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে বিডিআরের নাম-পরিচয় পুনর্বহাল করা হবে এবং পিলখানার দিনটিকে জাতীয়ভাবে শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান—দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এখন নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

পিলখানার হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডে’\র পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে বিতর্ক থামেনি আজও। ঘটনার নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর সরকারের আস্থা নেই। তাঁর ভাষ্য, নতুন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং যে প্রশ্নগুলো এতদিন অমীমাংসিত ছিল, সেগুলোর জবাব খোঁজা হবে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ এক প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে বর্তমান সরকার ওই রিপোর্ট গ্রহণ করেনি, ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়ে গেছে।

পিলখানার সেই রক্তাক্ত হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ড প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান (General Waker-Uz-Zaman) বলেছেন, ‘এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি; তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দ্বারাই এটি সংঘটিত হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তা কোনোভাবেই ব্যাহত করা উচিত নয়।

সতেরো বছর পরও পিলখানার সেই দুই দিনের স্মৃতি জাতির মনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। একদিকে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা, অন্যদিকে নাম-পরিচয়ের পুনর্বহাল এবং নতুন তদন্তের ঘোষণা—সব মিলিয়ে দিনটি এবার কেবল শোকের নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেরও সাক্ষী হয়ে থাকল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *