বরাবরের মতো আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে (Bangladesh Railway)। নিয়মিত ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি এবার পাঁচ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পান।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ৩ মার্চ থেকে, যা চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। অন্যদিকে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি হবে ১৩ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার শতভাগ টিকিটই অনলাইনে বিক্রি করা হবে, ফলে কাউন্টারে ভিড়ের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে ঈদ উপলক্ষে ট্রেন পরিচালনা ও যাত্রীসেবা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আসন্ন ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং ট্রেন চলাচলের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ঈদ স্পেশাল ট্রেন কোন কোন রুটে
ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে। এর মধ্যে রয়েছে—
চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল’।
ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘তিস্তা ঈদ স্পেশাল’।
ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটেও চলবে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’।
জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে থাকবে ‘পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল’।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের পর এসব স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে ফিরতি যাত্রাও পরিচালনা করা হবে, যাতে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরাও একইভাবে সুবিধা পান।
অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিস্তারিত সূচি
আগামী ৩ মার্চ থেকে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ১৩ থেকে ১৯ মার্চের যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
টিকিট বিক্রির সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে আলাদাভাবে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে।
ঈদ সামনে রেখে বাড়তি এই ট্রেন ব্যবস্থাপনা ও অনলাইন টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত যাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে বলেই আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।


