তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র আট দিন। এরই মধ্যে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী অতিকথনের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তাদের বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
বিশেষ করে বিরোধী পক্ষ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করছে। তবে মন্ত্রীদের কথার লাগাম টানতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ইতিমধ্যে তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন, কথা কম বলে কাজে মনোযোগ দিতে। এমনকি নিজের দায়িত্বের বাইরে অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতর ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলতে বারণ করেছেন। এমনকি মন্ত্রীদের ১৮০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার দুপুরে একজন প্রতিমন্ত্রী তার দফতরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের গণমাধ্যমে হুটহাট কথা বলতে বারণ করেছেন। এমনকি সরকারের ভবিষ্যৎ পলিসি কিংবা পরিকল্পনার কথা সরকারের তরফ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বিক্ষিপ্তভাবে যাতে কেউ গণমাধ্যমে কথা না বলেন। এলোমেলো কথা বললে সামাজিকমাধ্যমে তা সমালোচনার সৃষ্টি করে, যা নতুন সরকারের জন্য বিব্রতকর। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা তার দায়িত্বের বাইরে কথা বলতে পারবেন না। এটা শোভনীয় নয়। এ জন্য আমি মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত ইস্যুতে আপাতত কথা বলতে চাচ্ছি না। এর বাইরে রাজনীতিতে কথা বলতে পারি। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করেই বক্তব্য দিতে হবে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে যাতে কোনো সমন্বয়হীনতা না থাকে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিন অর্থাৎ ৬ মাস পর মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবেন। এ জন্য আমরাও আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ মাস পর কথা বলব।
একজন প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি ঘটনা উল্লেখ করে একজন মন্ত্রী বলেন, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি কর্মচারী নেতারা অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের সৌজন্য কথাবার্তা বাইরে গণমাধ্যমে তুলে ধরেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক এম এ হান্নান।
তিনি অর্থ প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কর্মচারীরা পে-স্কেল পাবেন কিন্তু নতুন এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন, তাই আপনারা ধীরে ধীরে পে-স্কেল পাবেন। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, কিছু সময় লাগবে। আপনারা ধৈর্য ধরুন।
গণমাধ্যমে এমন খবরে বিব্রত হন অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের একটি পলিসির ব্যাপার। হুট করেই সরকার করতে পারবে না। বিচ্ছিন্নভাবে বক্তব্য আসলে এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
সম্প্রতি পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা চাঁদাবাজিকে অনেকটাই বৈধতা দিয়ে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি মনে করেন, এই টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে। জোর করে আদায় করছে না। এ জন্য চাঁদা বলা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজি নিয়ে তার দেওয়া এমন বক্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সরকারের দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্য অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার শামিল বলেই মনে করেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেছেন, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় যাত্রী বা ভোক্তাদের ওপর চাঁদার ‘চেইন রিঅ্যাকশন’-এর কথা বিবেচনায় রাখেননি সড়কমন্ত্রী। কারণ পণ্য কিংবা যাত্রী যেকোনো ক্ষেত্রেই চাঁদার অর্থ মূলত শোধ করতে হয় ভোক্তাকেই। এ ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে টাকা তোলাকে ‘শ্রমিক উন্নয়নের লেবাস’ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তারা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন তখন তারই মন্ত্রিপরিষদের একজনের চাঁদাবাজি নিয়ে এমন বক্তব্য সাংঘর্ষিক।
অনেকে বলেছেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে চাঁদার যে নতুন সংজ্ঞা দিলেন, সেই সংবাদ জনপরিসরে বিস্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মন্ত্রী এমন সংজ্ঞা আবিষ্কার করে শুরুতেই নতুন সরকারের পথচলায় বিতর্কের জন্ম দিলেন। তার এই বক্তব্য শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যাখ্যা নয়, রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
শুধু সড়কমন্ত্রী রবিউল আলমই নন বিএনপি সরকারের আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী কাছাকাছি বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি নিজ নির্বাচনি এলাকা চাঁদপুরে গিয়ে এক সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সেখানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি সন্ধ্যার পর বাইরে ঘোরাঘুরি করে, তা হলে তাদের ধরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তার এ বক্তব্যের পর চাঁদপুরে সন্ধ্যার পর অভিযানে নেমে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। রাজধানী ঢাকাতেও সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকটি অভিযানের খবর সামনে আসে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটে।
সমালোচনার মুখে যদিও পরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে আমি এটা বলিনি। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমরা সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে বসতাম। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমি বলেছি- সন্ধ্যার পর ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। দ্যাটস ইট। এর বেশি কিছু নয়।
শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীরা শাহবাগে বিক্ষোভ করে। মন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে পতিত শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে সাদৃশ্য টানেন। কম যাননি প্রতিমন্ত্রীও।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা বিশ্বমানের হবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে পড়তে আগ্রহী হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহুল ব্যবহৃত ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অনেক ব্যবহারকারী এই স্লোগানটি লিখে পোস্ট করছেন।
সম্প্রতি ভাষা ও পরিচয় ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক থেকেই নতুন করে বিষয়টি সামনে আসে, যা উত্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মাতৃভাষা দিবসে নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তা হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা।
তিনি বলেন, আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তা হলে জেন-জি ইনকিলাব বলত না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়। বিদ্যুৎমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। ছাড় দেননি এনসিপি নেতারাও।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ লেখেন, ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয়, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয় না মাননীয় মন্ত্রী?
আরেক আলোচিত নেতা এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম লেখেন, যে স্লোগান স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, সেই স্লোগান তাদের উত্তরসূরিদের ভয়ের কারণ তো হবেই।
চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি বলেছেন, মানুষ ডাক্তারের পেছনে ঘুরবে না, ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে। এই বক্তব্যকে কাল্পনিক ও বাস্তবতা-বিবর্জিত উল্লেখ করে সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা, অভিনয়শিল্পী ও রাজনীতিবিদ সোহেল রানা তার ফেসবুকে নতুন সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, কিছু মন্ত্রীর বক্তব্যে এখনই লাগাম টানতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যে সংযম প্রয়োজন। তার ভাষ্য- কিছু মন্ত্রীর বক্তব্যে এখনই লাগাম টানানো দরকার। কোনো বিশেষ সংবাদ ব্যতিরেকে তাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের কোনো সংবাদ ওই মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিলেই চলবে। বিশেষ প্রয়োজনে তাদের আসা দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আসা যেতে পারে।
আর রাজনীতিবিদ বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে অতিকথন, ঠিক হাসিনার এমপি-মন্ত্রীদের মতো। অতীতের মন্ত্রীরা যেসব কথা বলেছেন, আমরা সেসবের পুনরাবৃত্তি চাই না।
মন্ত্রিপরিষদে এমন চিত্রের ব্যতিক্রমও আছে : অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করতে চাই। এর মাধ্যমে তিনি ফলপ্রসূ শাসনব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগাম কোনো বক্তব্য দেওয়ার চেয়ে অগ্রাধিকার হবে কাজের ওপর মনোনিবেশ করা।
আমীর খসরু স্পষ্ট করে জানান, তাৎক্ষণিক জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তার দৃষ্টিভঙ্গি হবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিষয়গুলো সতর্কভাবে পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে। সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করায় চলমান কর্মসূচি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপনের জন্য তার কিছুটা সময় প্রয়োজন। আগেভাগেই বেশি কথা বলে কোনো লাভ নেই।
তিনি বলেন, আমাকে থিতু হতে দেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেন। যথাসময়ে সবকিছু জানানো হবে।
সিন্ডিকেট নিয়ে ‘সাউন্ড বাইট’ দিয়ে নয়, কাজ করে দেখাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সিন্ডিকেট নিয়ে সাউন্ড বাইট দেব না, কাজ করে দেখাব। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বিলম্বিত করতে চাই। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। একই সুরে কথা বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেন, আমরা কাজ করে দেখাতে চাই।
ছয় মাস পর মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী : আগামী ছয় মাসের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী সময়ের আলোকে বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনাও দেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ইতিমধ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাজে সততা বজায় রাখা ও দুর্নীতিকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অতিকথনে ফাড়ায় পড়েন পতিত মন্ত্রীরা : ‘অন্য দেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি’ মন্তব্য করে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বেফাঁস মন্তব্য করে স্বয়ং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের বক্তব্যেও।


