সংস্কৃতি চর্চাই জাতিকে সমৃদ্ধ করে—একুশে পদক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চারণ

শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চাই একটি জাতিকে আত্মমর্যাদাবান ও সমৃদ্ধ করে তোলে—এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক চেতনার লালন ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি পূর্ণতা পায় না।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন (Osmani Memorial Auditorium)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক (Ekushey Padak) তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা পর্যায়ের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর চলচ্চিত্রে চিত্রনায়িকা ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু, দলগতভাবে ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ (Warfaaze), নৃত্যে অর্থী আহমেদ, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এই পদকে ভূষিত হন। নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদান ও সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতি হিসেবেই তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

একুশে পদকের ইতিহাসও উঠে আসে অনুষ্ঠানের আলোচনায়। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) এই পদক প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের কৃতি সন্তানদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ৬০৫ জন ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠান এই সম্মানজনক পদক লাভ করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃতি চর্চা কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণের ভিত্তি। তিনি নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *