সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে হঠাৎ কেঁপে ওঠে জনপদ। মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক—ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন অনেকে, কেউ কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (European-Mediterranean Seismological Centre) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। অন্যদিকে Google-এর অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্যে মাত্রা দেখানো হয়েছে ৪.৯। দুই উৎসের তথ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও কম্পনের তীব্রতা ছিল স্পষ্ট এবং অনুভূত।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার। ফলে কম্পনের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আশাশুনি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে। এই তথ্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ এত কাছাকাছি উৎপত্তিস্থল হলে ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-এর কিছু এলাকাতেও—যেমন বারাসাত—এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে কম্পনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় আঞ্চলিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


