জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হচ্ছে। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যভুক্ত দেশগুলো এ লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে এবং সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নেবে—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব (Saudi Arabia) সফর শেষে ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। সফরটিকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (United Nations General Assembly) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সামনে রেখে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি (Organisation of Islamic Cooperation)-এর বিভিন্ন দেশ কেবল সমর্থনই দেবে না, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রচারণাও চালাবে।
সৌদি আরবে অবস্থানকালে তুরস্ক, পাকিস্তান, মালদ্বীপসহ মোট পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান ড. খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্ক (Turkey), পাকিস্তান (Pakistan) ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তারা।
শুধু জাতিসংঘের নির্বাচন ইস্যুই নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও কয়েকটি দেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে আগ্রহের কথাও উঠে এসেছে বৈঠকগুলোতে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে আফগান-পাকিস্তান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের সংঘাত কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। বাংলাদেশ এ যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। তার ভাষায়, শান্তি ও স্থিতিশীলতাই হওয়া উচিত সবার অগ্রাধিকার।
সৌদি সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বিমানবন্দরে দেওয়া বক্তব্যে তার প্রতিফলনই দেখা গেছে—বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উভয় ক্ষেত্রেই সমর্থন জোরদারে তৎপর।


