ঢাকার বহুমাত্রিক নাগরিক সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (Ishraq Hossain)। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম (Abdus Salam)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নগরভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ডেঙ্গু মোকাবিলা, মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করা, রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের নগর সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইশরাক হোসেন বলেন, আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে মশক নিধন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে। বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা যেন নাগরিক দুর্ভোগে রূপ না নেয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রশাসকদের নাগরিক সেবা দ্রুত সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় কার্যকর সরকার অনুপস্থিত থাকায় সেবা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করে ইশরাক বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করে আসছেন। সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত অভিপ্রায় উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন—দল মনোনয়ন দিলে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত হলে তবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর মনোনয়নে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও এখনই কোনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংসদে হবে এবং দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণ করবে দলই।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অস্বাভাবিক ভোটপ্রাপ্তির অভিযোগও তোলেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় অতীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) সর্বোচ্চ তিন হাজার ভোট পেয়েছিল, কিন্তু এবারের প্রাপ্ত ভোট ছিল কল্পনার বাইরে। এ বিষয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তালিকায় কোনো অনিয়ম বা ডুপ্লিকেশন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটার তালিকা সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলেই নাগরিক আস্থা ফিরে আসবে।


