গভর্নর নিয়োগে সরকারের অস্বচ্ছতা ও দুর্বলতার অভিযোগ তুললেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (Centre for Policy Dialogue – CPD)–এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বর্তমান সরকারের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই নিয়োগে সরকার অস্বচ্ছ ও দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আরও যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও তারপর’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিশদ আলোচনা তুলে ধরা হয়।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবনিযুক্ত গভর্নরকে ঘিরে নানা সমালোচনা ইতোমধ্যেই সামনে এসেছে। তাঁর মতে, সরকার চাইলে এসব বিতর্ক এড়িয়ে আরও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে দায়িত্ব দিতে পারত। সম্ভাব্য যোগ্য ব্যক্তিদের একটি তালিকা সরকারের হাতে ছিল বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

বাংলাদেশে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো আইনবদ্ধ ও প্রাতিষ্ঠানিক বাছাই প্রক্রিয়া নেই—এ বিষয়টিকে একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন সিপিডির এই গবেষক। তুলনামূলক উদাহরণ টেনে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)–এর প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন করে। প্রার্থীর অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক—এমন কাঠামোবদ্ধ মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে গভর্নর নিয়োগে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, যাতে ব্যক্তি নয়, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা প্রাধান্য পায়।

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর–এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনৈতিক বিষয়গুলো প্রত্যাশিত অগ্রাধিকার পায়নি। তবে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে সাবেক গভর্নর কিছু সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নিতে পেরেছিলেন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাবেক গভর্নরকে দায়িত্বে রাখলে আর্থিক খাতের জন্য তা ইতিবাচক হতো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক গভর্নরকে বিদায় জানাবেন এবং তাঁর অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *