ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে দেশের আকাশপথে। এর জেরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Chattogram Shah Amanat International Airport) থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল এমন সব ফ্লাইট এবং সেখান থেকে চট্টগ্রামে আসার নির্ধারিত ফ্লাইট—উভয়ই বাতিল করা হয়েছে। মোট ৭টি অ্যারাইভাল এবং ৩টি ডিপার্চার ফ্লাইট এর আওতায় পড়েছে।
এর আগে শনিবার কয়েকটি নির্দিষ্ট ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস (Biman Bangladesh Airlines)-এর ফ্লাইট BG-147 (ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই)। চট্টগ্রাম থেকে যার সম্ভাব্য ছেড়ে যাওয়ার সময় ছিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট। একই সংস্থার আরেকটি ফ্লাইট BG-151 (ঢাকা-চট্টগ্রাম-শারজাহ) চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে।
এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস (US-Bangla Airlines)-এর ফ্লাইট BS-333 (ঢাকা-চট্টগ্রাম-দোহা) চট্টগ্রাম থেকে সম্ভাব্য ডিপার্চার সময় ছিল সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিট—সেটিও বাতিল করা হয়।
শুধু প্রস্থান নয়, আগমনী ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এয়ার আরাবিয়া (Air Arabia)-এর ফ্লাইট G9-520 (শারজাহ-চট্টগ্রাম) শারজাহ থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ছেড়ে আসার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট BS-344 (দুবাই-চট্টগ্রাম) দুবাই থেকে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে রওনা হওয়ার কথা ছিল—সেটিও বাতিল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে সালাম এয়ার (SalamAir)-এর ফ্লাইট OV-403 (মাস্কাট-চট্টগ্রাম) মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী নির্দেশনা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


