সৌদি আরব (Saudi Arabia) মঙ্গলবার জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ (Riyadh) এবং আল-খার্জ শহরের আকাশসীমায় প্রবেশ করা মোট আটটি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, এর মধ্যে অন্তত দুটি ড্রোন সরাসরি রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস (U.S. Embassy) লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার ফলে দূতাবাস ভবনে সীমিত পরিসরে আগুন লাগে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি সামান্য পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক পোস্টে তারা উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার থেকে ইরান (Iran)-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলার খবর সামনে আসে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এক বিবৃতিতে বলেছেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার প্রতিক্রিয়া এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে মার্কিন সামরিক কর্মীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ—দুটোরই জবাব “শীঘ্রই” স্পষ্টভাবে দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্য নতুন করে সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলছে। আকাশে ড্রোনের শব্দ এবং পাল্টা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এখন যেন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।


