মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন বৈশ্বিক কূটনীতির অন্দরে বাড়ছে নতুন হিসাব-নিকাশ। মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলায় ইরানের ভূখণ্ডে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, আর তার জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দিনের সফরে আজ ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর (Paul Kapur)।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো মার্কিন সরকারের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। ফলে কূটনৈতিক অঙ্গনে এ সফরকে ঘিরে বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে—সেদিকেই এখন নজর বিশ্লেষকদের।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত—যেখানে ইসরাইল (Israel) ও ইরান (Iran) সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়েছে—তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায় কতটা পড়তে পারে, সে বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সংলাপের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে। মানবিক সহায়তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ—এসব প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও বাংলাদেশ (Bangladesh)-এর অবস্থান কতটা সমন্বিত, সেটিও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা সফরকালে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির টালমাটাল প্রেক্ষাপটে এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়—বরং দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


