এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগীভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Education Bangladesh)-এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। এতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (Dr. A N M Ehsanul Haque Milon)। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (Bobby Hajjaj)।
সভায় মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ (SSC and Equivalent Examination 2026)-এর সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন তিনি। অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের প্রবণতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বডি সার্চ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে কোনোভাবেই নকলের সুযোগ না থাকে। পরীক্ষা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের জন্য পরীক্ষার সিস্টেমে পরিবর্তন আনতেই হবে। অটোপাশের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।” প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত রীতি থেকে সরে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এমনকি পরীক্ষা কেন্দ্রের টয়লেটে নকলের প্রমাণ মিললেও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজনের কথাও জানান তিনি, যাতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসন একযোগে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সভায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব জেলায় এখনো জিলা স্কুল নেই, সেখানে নতুন করে জিলা স্কুল (Zilla School) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে, উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে গড়ে তোলা হবে সমন্বিত কাঠামো। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সভা শেষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ থাকবে না।


