সড়কে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নয়—অভিনন্দন ব্যানার দ্রুত অপসারণের কড়া নির্দেশ তারেক রহমানের

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে টানানো প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো ব্যানার, বিলবোর্ড ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন দ্রুত সরিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে দেওয়া এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন (Atiqul Rahman Rumon)।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, মঙ্গলবার সকালে গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে হাতিরঝিলে পুলিশ প্লাজার সামনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত একটি বড় ব্যানার দেখতে পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই সেটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হয়।

শুধু একটি নয়—রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোম্পানির উদ্যোগে বিলবোর্ড ও ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে অভিনন্দন বার্তা প্রদর্শনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। এসব বিজ্ঞাপন দ্রুত সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।

কয়েকদিন আগেও বিজয় সরণী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলইডি স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও অভিনন্দন বার্তা ভেসে উঠতে দেখেন তারেক রহমান। তখনই তিনি সেটি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট—রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিপূজার চর্চা তিনি নিরুৎসাহিত করতে চান।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয় (Bangladesh Secretariat)-এ অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছান। দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জিয়াউল হক (Ziaul Haque), মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (Bangladesh Coast Guard)।

সাক্ষাৎকালে উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা, ডাকাতি এবং অবৈধ পাচার রোধে নিয়মিত টহল জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

এদিকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—রাজধানীতে ট্রাফিক সিগন্যাল মানার প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানবাহনের গতি বেড়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়াই চলাচল করায় যান চলাচলে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আতিকুর রহমান বলেন, আগে রাজধানীতে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার, যা প্রায় হাঁটার গতির সমান। দায়িত্বভার গ্রহণের পর তারেক রহমান ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে নিজেও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে গড়ে এক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *