কোরআনের হুকুম জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

কেবল হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তিজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (Kazi Shah Mofazzal Hossain Kaykobad)। তিনি বলেন, কোরআনকে মানতে হবে, অনুসরণ করতে হবে এবং তার হুকুমকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হবে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Bangladesh Jatiyatabadi Chhatra Dal)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিফযুল কোরআন ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬’ (সিজন ২)-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “সবকিছুর মালিক আল্লাহ। তিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের রিজিকের ব্যবস্থাও তিনিই করেন।” তিনি আরও বলেন, মানুষ যত বেশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে, তত বেশি তাঁর রহমত ও দয়া লাভ করবে। আল্লাহ মানুষকে শোনার ক্ষমতা দিয়েছেন, তা মনে রাখার শক্তি দিয়েছেন এবং যথাসময়ে স্মরণ করার তৌফিকও দিয়েছেন। চোখের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নেয়ামত তিনি দান করেছেন।

সরকারি প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ একটি জালিম সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্তি দিয়েছেন এবং কুদরতি ব্যবস্থায় বর্তমানদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। “তিনি যা চান, তাই-ই হয়ে থাকে”—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় নির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কোরআন শিক্ষায় কওমী মাদ্রাসার অবদান স্মরণ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ দেশে কোরআন শিক্ষার প্রসারে কওমী মাদ্রাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাদেরকে আরও সংগঠিত ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে তারা সমগ্র বাংলাদেশে কোরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারে।

রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মাস রহমত ও বরকতের মাস। এ মাসেই আল্লাহ কোরআন নাজিল করেছেন। পবিত্র এই মাসে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় তিনি ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর অবদানের কথা স্মরণ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত করার কৃতিত্ব তাঁর। তিনি ওআইসি ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলেও জানান তিনি।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ (Baitul Mukarram National Mosque)-এর খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এছাড়া মাহাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক হাফেজ মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ আযহারী বক্তব্য রাখেন। এসময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারটি গ্রুপে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি গ্রুপের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *