সাবেক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর শিক্ষক আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) তাকে ঘিরে ছড়ানো দুর্নীতির অভিযোগ ও নানা গুজব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৭টা ৪১ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাকে নিয়ে ছড়ানো অনেক অভিযোগই ভিত্তিহীন ও গুজব।
স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লিখেছেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে এমন একটি খবর ছড়ানো হয়েছিল যে তিনি নাকি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন, তার পরিবার সেখানে চলে গেছে এবং তিনিও শিগগিরই সেখানে চলে যাবেন। তিনি বলেন, এই খবরটি সম্পূর্ণ গাঁজাখুরি এবং অনেক মানুষ সেটি বিশ্বাসও করেছিলেন।
তিনি জানান, পরে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দেন—যদি যুক্তরাষ্ট্রে তার কোনো বাড়ি থাকে, তাহলে তার প্রমাণ দেখাতে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনলে তার রেকর্ড থাকে এবং তা লুকানো সম্ভব নয়। আট মাস পেরিয়ে গেলেও কেউ এমন কোনো ঠিকানা, দলিল বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি। কারণ বাস্তবে বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই তার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর আবার নতুন করে তার এবং তার কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে তথাকথিত দুর্নীতির নানা খবর ছড়ানো শুরু হয়েছে। প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে, পরে বিভিন্ন জায়গায় কপি-পেস্ট করে এসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আসিফ নজরুল তিনটি বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রথমত, তিনি বলেন যে, সরকারে থাকা অবস্থায় বা জীবনের কোনো সময় তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। তার ভাষায়, “এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি।” তিনি বলেন, এ সময় তিনি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেননি, কোনো নতুন সম্পদ অর্জন করেননি এবং আয়কর দেওয়ার সময় কোনো সম্পদ গোপনও করেননি।
দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন যে তিনি কখনো স্বজনপ্রীতিও করেননি। সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের সুবিধা দেননি বলেও দাবি করেন। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেখানে তার কোনো আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন যে তিনি এলাকাপ্রীতিও করেননি। উপদেষ্টা থাকাকালে নিজের গ্রামের বাড়ি কিংবা ঢাকায় যেখানে তিনি বড় হয়েছেন, সেখানে একবারও যাননি। তবে লালবাগ শাহী মসজিদ (Lalbagh Shahi Mosque)-এর জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী কিছু আর্থিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা করেছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের পর ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য অনুদান আনার বিষয়েও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা ধরনের অপবাদ ও মিথ্যাচারের শিকার হচ্ছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, এসব অপপ্রচার তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।


