দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর (Paul Kapur)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে মূলত কূটনৈতিক সম্পর্ক, বৈদেশিক নীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান (Dr. Abdul Moyeen Khan)-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসুফ এমপি এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. মঈন খান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ শুভাকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্র হিসেবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তারা বাংলাদেশে এসে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে—দেশে কী ঘটছে, সরকারের নীতিমালা কী এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের কর্মপন্থা নেওয়া হতে পারে, এসব বিষয় নিয়েই মূলত তাদের আগ্রহ।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক—নিয়ে সার্বিক আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের আলোচনা করেছে, সেই বিষয়টি সরকারই ভালোভাবে জানাতে পারবে। তবে আজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিল দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের নীতিমালা। একই সঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবও আলোচনার অংশ ছিল।
ড. মঈন খান আরও উল্লেখ করেন, বিরোধী দল নিয়ে সরাসরি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তার ধারণা, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারে। তবে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—কূটনৈতিক সম্পর্ক, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির পাশে যুক্তরাষ্ট্র থাকবে কি না—এটি আলোচনার বিষয় নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দলটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে এবং স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের কথা বলছে। তিনি বলেন, আজকের আলোচনায় মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


