দেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি (Bangladesh Jatri Kalyan Samity)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন সড়কে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নি’\হত হয়েছেন এবং আ’\হত হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, একই সময়ে রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ জনে। এসব দুর্ঘটনায় আ’\হতের সংখ্যা ১ হাজার ১৯৭ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি রেলপথেও উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। মাসটিতে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নি’\হত এবং ১১ জন আ’\হত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নি’\হত এবং ৫ জন আ’\হত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনটির ‘দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল’ জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে।
মাসের সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে বড় অংশই ছিল মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৫১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে। এসব ঘটনায় ১৬৭ জন নি’\হত এবং ১৩৭ জন আ’\হত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট হয়েছে দুর্ঘটনার তীব্রতা। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগ (Dhaka Division)-এ। এখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নি’\হত এবং ৩৮৭ জন আ’\হত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগ (Barishal Division)-এ। সেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নি’\হত এবং ৮৫ জন আ’\হত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়ও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। নি’\হতদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস (Fire Service) সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য এবং ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক এবং ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও রয়েছেন এই তালিকায়। দুর্ঘটনায় আ’\হতদের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষের পরিচয় মিলেছে।
দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, সড়ক পরিবহন খাত পরিচালনায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা বড় ভূমিকা রাখছে। এর পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, মহাসড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন বা বাতির অভাব, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ব্যবহার এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংস্থাটি বেশ কিছু সুপারিশও দিয়েছে। উন্নত বিশ্বের আদলে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণব্যবস্থা জোরদার, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নিশ্চিত করা এবং সিসি ক্যামেরা পদ্ধতির মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন, গণপরিবহনের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।


