আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নারী নেতৃত্ব ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)–কে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Women and Children Affairs)।
রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী মিলনায়তন (Osmani Memorial Auditorium)-এ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সরকারি এই পুরস্কার কার্যক্রম ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এর আওতায় গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আপসহীন আন্দোলন, প্রতিকূলতার মধ্যেও দৃঢ় অবস্থান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ধারাবাহিক নেতৃত্ব প্রদানের কারণে খালেদা জিয়াকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর নেতৃত্বকে সামনে আনতে তার অবদানকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারীদের ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে—অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী, শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী, সফল জননী নারী, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী।
এ বছর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী ক্যাটাগরিতে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অদম্য সংগ্রাম, আত্মপ্রত্যয় এবং নেতৃত্বকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়। আয়োজকদের আশা, এসব স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও অনেক নারীকে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।


