জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি বলেছেন, একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমিক সমাজ। তাদের পরিশ্রম, ঘাম এবং ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো— বহু ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, অবিচার এবং অনিরাপদ পরিবেশের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে শ্রমিক সমাজ গভীরভাবে জড়িত। সেই শ্রমিকদের শৃঙ্খলা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল (Bangladesh Jatiyatabadi Sramik Dal) সবসময় সোচ্চার থাকবে।
রোববার (৮ মার্চ) ময়মনসিংহ (Mymensingh) শহরের শাহজাহান কমিউনিটি সেন্টারের সূর্যমুখী হলে বিভাগের সব জেলা, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত “শ্রম পরিস্থিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা শীর্ষক” মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিক নেতা আবু সাঈদ (Abu Sayeed)-এর সভাপতিত্বে এবং আব্দুস সোবাহান (Abdus Sobahan)-এর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু (Manjurul Islam Monju) সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ— আনোয়ার হোসেন, ইদ্রিস আলী, আসাদুল ইসলাম, ফজলুর রহমান নান্টু, সাজেদুল ইসলাম সায়েম, মনিরুজ্জামান মনির ও শাহ সুজন প্রমুখ।
ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১০ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের সভা আয়োজন করা হবে বলে জানান নেতারা।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সবসময় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তার ভাষায়, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো শিল্প-কারখানা বা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। একইভাবে শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো টেকসই উন্নয়নও সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক দল শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি চায়— শ্রমিকরা যেন মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্য পায় এবং কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের শোষণ বা নির্যাতনের শিকার না হয়।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। বলেন, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত সততা বজায় রাখা জরুরি। শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল শিল্পখাত এগিয়ে যেতে পারে।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, শ্রমিক দলের দৃঢ় বিশ্বাস— শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা শুধু কোনো একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ, মর্যাদা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সবসময় শ্রমিকদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


