হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যুদ্ধের আগেই আসা ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, এলএনজি-এলপিজিসহ বিপুল পণ্য

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করে বাংলাদেশের পথে রওনা হওয়া ১৫টি জাহাজ এখন ধীরে ধীরে ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দর (Port of Chittagong)-এ। এসব জাহাজের মধ্যে ১২টি ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে, আর বাকি জাহাজগুলো আগামী শুক্রবারের মধ্যেই পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (Chittagong Port Authority)।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে ওঠার আগেই বেশ কয়েকটি জাহাজ বিপজ্জনক হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) পেরিয়ে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা করেছিল। সেই জাহাজগুলোই এখন একে একে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে রয়েছে এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।

বন্দর সূত্র বলছে, জাহাজগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। তখন অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছিল ঠিকই, কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে এসব জাহাজ ধাপে ধাপে বন্দরে এসে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ১৫টি জাহাজে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং বাকি নয়টি জাহাজে রয়েছে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার।

বিশেষ করে বিপজ্জনক এই নৌপথ পাড়ি দিয়ে কাতার (Qatar) থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ আগামী সোমবার ও বুধবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওই দুটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *