আগামী ১৪ মার্চ সারাদেশে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার ঘোষিত মাসিক ভাতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তার এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রবিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় (Ministry of Religious Affairs) কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ (Ismail Zabiullah) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করার অঙ্গীকার করেছিল। সেই অঙ্গীকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারী ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে সরকার।
সরকার প্রথম পর্যায়ে একটি পাইলট স্কিমের আওতায় এই ভাতা কার্যক্রম চালু করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির নির্বাচন করা হয়েছে।
এছাড়া সারাদেশে ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার থাকায় প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ১৯৮টি উপজেলায় গির্জা থাকায় প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জা এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় মাসিক সম্মানীর পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম পাবেন মাসে ৫,০০০ টাকা সম্মানী। মুয়াজ্জিন পাবেন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম পাবেন ২,০০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক মোট ১০,০০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫,০০০ টাকা এবং সেবায়িত পাবেন ৩,০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাবেন ৫,০০০ টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩,০০০ টাকা। গির্জার যাজক পাবেন ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩,০০০ টাকা। ফলে প্রতিটি মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার জন্য মাসিক মোট ৮,০০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিয়মিত সম্মানীর পাশাপাশি উৎসব ভাতাও দেওয়া হবে। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময় সংশ্লিষ্টদের ১,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। একইভাবে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবায়িত, বিহার অধ্যক্ষ, বিহার উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের ২,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, এই সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে মোট ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত সকল উপকারভোগীর কাছে সোনালী ব্যাংক (Sonali Bank) এর মাধ্যমে এই অর্থ পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই এই সম্মানী হাতে হাতে দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকবে এবং দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।


