ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হ’\ত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্তদের ভারতে গ্রে’\প্তারের ঘটনা উল্লেখ করে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন নাছির উদ্দীন নাছির (Nasir Uddin Nasir)। তিনি বলেন, এই হ’\ত্যাকাণ্ডকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু নৈরাজ্যবাদী দুষ্টচক্র নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করেছিল।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব কথা বলেন।
তিনি লিখেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হ’\ত্যার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে গ্রে’\প্তার হয়েছেন—এ তথ্য ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিশেষ করে আনন্দবাজার পত্রিকা নিশ্চিত করেছে।
নাছির উদ্দীন নাছিরের দাবি, হ’\ত্যাকাণ্ড ঘটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে যান। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মূল অভিযুক্তদের কাউকে গ্রে’\প্তার করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় ভারতে প্রধান দুই আসামির গ্রে’\প্তার হওয়া একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) হাদি হ’\ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) দেশে ফিরে শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন এবং হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ছাত্রদলের এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারত অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। এ ক্ষেত্রে সরকার কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, হাদি হ’\ত্যা মামলার অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি—রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পরে রোববার তাদের বিধাননগর আদালত (Bidhannagar Court)-এ হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ওই দুই অভিযুক্ত অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। সুযোগ পেলে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন।


