দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৩৬২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)-এর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ক্রয় কমিটি গঠনের পর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই গত বুধবার সন্ধ্যায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক ইরান (Iran)–ইসরাইল (Israel) সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৫–১৬ মার্চ একটি এবং ১৮–১৯ মার্চ আরেকটি কার্গো এলএনজি সরবরাহ করা হবে। ২০২৬ সালে এর আগে দুই দফা এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। এবার তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় এই দুই কার্গো আমদানি করা হবে।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (Mohammad Saiful Islam) বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জিটুজি চুক্তির আওতায় কাতার (Qatar) থেকে ২.৫ এমটিপিএ এবং ওমান (Oman) থেকে ১ এমটিপিএ এলএনজি কেনা হচ্ছে।
এ ছাড়া চাহিদা অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করা হয়। এই দুই কার্গোর প্রতিটিতে প্রায় ৩৫ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকবে, যা সর্বোচ্চ ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার এমএমবিটিইউ পর্যন্ত হতে পারে।
১৫–১৬ মার্চ সরবরাহযোগ্য এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গানভর সিঙ্গাপুর প্রা. লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮.২৮ ডলার দরে কেনা হবে। অন্যদিকে ১৮–১৯ মার্চ সরবরাহযোগ্য এলএনজি মেসার্স ভিটেল প্রা. লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩.০৮ ডলার দরে কেনা হবে।
ডলারপ্রতি ১২২ টাকা ৭০ পয়সা বিনিময় হার ধরে প্রথম কার্গোর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় কার্গোর জন্য প্রায় ১ হাজার ৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৩৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে স্পট মার্কেটের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এই দরকে যৌক্তিক মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, এলএনজি আমদানির অর্থ পেট্রোবাংলা (Petrobangla) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত এলএনজি চার্জ খাতের তহবিল থেকে পরিশোধ করবে।


