ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি দাবি করেছেন, ইরান (Iran)-এর পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের সমর্থন ছাড়া ওই নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ (ABC News)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব কেমন হবে—তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত কেউ যদি নিজেকে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তাকেও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, ইরান চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্রমানের পারমাণবিক উপাদান তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। তার মতে, ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তারা প্রয়োজনীয় উপাদান প্রস্তুত করতে পারে।
তিনি আরও জানান, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় একটি অংশ বর্তমানে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নাতানজ (Natanz), ফরদো (Fordow) এবং ইসফাহান (Isfahan) পারমাণবিক স্থাপনা।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে। তার ভাষায়, “সব বিকল্পই খোলা আছে।”
যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত কত দিন পর্যন্ত চলতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে চাননি ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী পরিকল্পনার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এবং পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প ধারণা দিয়েছিলেন, সম্ভাব্য এই সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা এখনই সম্ভব নয়।


