চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান (Iran)-কে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।

সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চীনা রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন (China) একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি জানান, বাংলাদেশকে জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে চীন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তিস্তা প্রকল্পসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি নতুন উন্নয়ন উদ্যোগে বিনিয়োগের ব্যাপারেও চীন আগ্রহী। বিশেষ করে বড় অবকাঠামো প্রকল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়—এমন উদ্যোগে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রকল্পেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী চীন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে চীন তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বৈঠকে অর্থ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায়—সে বিষয়েও বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।

তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও আলোচনার কথা উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি নতুন সরকার ও চীনের অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পগুলোর একটি। খুব দ্রুত এ প্রকল্পে কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নেতৃত্বের ধরন চীনের কাছে আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি চীনকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ (Md. Ismail Jabiyullah) বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বন্ধু রাষ্ট্র ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *