মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য ইতোমধ্যে ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ঈদের আগে কি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে?
এই প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম (Sheikh Robiul Alam) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেন ঈদযাত্রা ব্যাহত করা না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ সন্তোষজনক এবং নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। ঈদের সময় যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বাসসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই বলেও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এদিকে রবিবার (৮ মার্চ) থেকে দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation)।
বিপিসির নির্দেশনায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য প্রতিদিনের তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার।
স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি—যা সাধারণভাবে জিপ নামে পরিচিত—এবং মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের জ্বালানি গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার। তেল কেনার সময় ক্রেতাদের রসিদ নিতে হবে এবং পরবর্তীতে আবার তেল নেওয়ার সময় সেই রসিদ দেখাতে হবে—এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (Iqbal Hasan Mahmud Tuku), যিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন, জানান যে সোমবার (৯ মার্চ) আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে ইতোমধ্যে তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, তেল সরবরাহ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রেশনিং চালু করা হয়েছে। তবে অনেকেই এই রেশনিংকে সংকটের ইঙ্গিত মনে করে অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, “আমি আগেও বলেছি, গতকালও বলেছি, আজও বলছি—তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা শুধু সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে রেশনিং করেছি। বাস্তবে দেশে তেলের কোনো অভাব নেই।”


