যুক্তরাজ্যে পোঁছালো যুক্তরাষ্ট্র’র তিনটি বি-৫২ বোমারু বিমান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে ইরান স্পষ্টভাবে নত না হওয়ার বার্তা দিয়েছে। এর জেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হামলা আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) ঘাঁটিতে সামরিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাতের দশম দিন সোমবার সেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কয়েকটি ভারী বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে।

সোমবার সকালে তিনটি বি-৫২ বোমারু বিমান ওই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের মাটিতে এই প্রথমবারের মতো বি-৫২ বোমারু বিমান দেখা গেল বলে জানিয়েছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।

১৯৫০-এর দশকে মার্কিন বিমানবাহিনী (US Air Force)-এর বহরে যুক্ত হওয়া বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে আফগানিস্তান পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই বিমান ব্যবহারের নজির রয়েছে।

বি-৫২ বোমারু বিমানের কিছু ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ড কাঠামোর অংশ। এর অর্থ, প্রয়োজনে এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতেও সক্ষম।

এই সুদূরপাল্লার বিমানগুলো দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার ক্ষমতা রাখে। ফলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে, যা এমন বিশাল আকারের বোমারু বিমানের অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

এই বিরল সামরিক উপস্থিতি দেখতে ঘাঁটির আশপাশে বহু সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দা ভিড় করেছেন বলেও জানা গেছে।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel) যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই হামলার পর থেকেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

২ মার্চ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ইরান (Iran) প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *