বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দামে বাড়তি চাপ নেই, পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের আশ্বস্ত বার্তা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (Anindya Islam Amit) জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই এবং সরকারও এখনই দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি তেমন সংকটজনক নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকগুণ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরও মানুষের অস্বাভাবিক চাহিদা ও উদ্বেগের কারণে তেল নিয়ে উৎকণ্ঠা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি—দুই ক্ষেত্রেই দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি বলেন, “আগেও কোনো সংকট ছিল না, এখনও নেই। যেহেতু বিদ্যুৎ বা জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, তাই এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।”

তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রেশনিং চালু, পরে কিছুটা শিথিলতা

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত রবিবার থেকে সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation) যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেলের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেয়।

প্রথম নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারত। এতে বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত চালকদের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে ওঠে।

তবে মাত্র দুদিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, যারা মোটরসাইকেল দিয়ে রাইড শেয়ারিং করেন তাদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত তেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অর্থাৎ আগের ২ লিটারের সীমা বাড়িয়ে এখন ৫ লিটার করা হয়েছে।

বিভিন্ন যানবাহনের জন্য নতুন সীমা

গত রবিবার বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য দৈনিক তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এছাড়া এসইউভি বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পরিবহন খাতে ডিজেল সরবরাহেও শৃঙ্খলা আনতে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটে চলাচলকারী বাস বা পিকআপ ভ্যান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিতে পারবে।

অন্যদিকে দেশের সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের আশা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আসবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *