দেশজুড়ে নদী, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের বৃহৎ কর্মসূচির সূচনা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই জাতীয় কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী-নালা ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কাজ একযোগে চালু করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম (Mir Shahe Alam)।
সরকারি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করবেন।
এই বৃহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (Local Government, Rural Development and Co-operatives Ministry), পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় (Ministry of Water Resources), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়। সরকারের লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই কর্মসূচি কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং এটি সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেই সরকার গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন খাল খননের কাজে যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রাখা হয়। অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে করানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হয়ে উঠবে।
শুধু শ্রমিক নিয়োগেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই কর্মসূচিকে আরও সামাজিক অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য।
তরুণ প্রজন্মকে দেশ গড়ার বাস্তব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


