হরমুজ প্রণালী বন্ধের চেষ্টা করলে ‘স্মরণকালের ভয়াবহতম’ হামলার মুখে পড়বে ইরান: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে ইরানকে ‘স্মরণকালের ভয়াবহতম’ হামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা (Al Jazeera)।

এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Pentagon)-এর প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন আঘাত’ হানবে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং সমন্বিত সামরিক হামলা চালানো হবে।

ব্রিফিংয়ে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)-এর মধ্যকার সাম্প্রতিক ফোনালাপের কথাও উল্লেখ করেন। হেগসেথের দাবি, ওই আলোচনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার কোনোভাবে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে ট্রাম্পের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকা।

ইরানে সম্ভাব্য হামলার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে। তার দাবি, বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ নেয় না।

এদিকে ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, সে বিষয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, সময়ের বিচারে যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে পরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর হামলা চালাবে। একই অনুষ্ঠানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যুদ্ধ কি এই সপ্তাহেই শেষ হতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘না, তবে খুব শিগগিরই।’

অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে সময়সীমা নিয়ে নমনীয় অবস্থান নেওয়ার নজির রয়েছে ট্রাম্পের। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক জনমতের বিষয়টিও তাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। যদিও শুরুতে ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, এখনো সে ধরনের কোনো বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন (Dan Caine) জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা এবং শিল্পঘাঁটি ধ্বংস করাই এখন মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

ড্যান কেইনের দাবি, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে ইরানের মাইন পেতে রাখা নৌযানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ৫০টির বেশি ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার তুলনায় তারা ততটা শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান সবচেয়ে কম সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শুরুর দিকের তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে এবং একমুখী ড্রোন হামলার হার ৮৩ শতাংশ কমেছে।

জেনারেল কেইন আরও জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *