ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন স্পিকারকে ঘিরে প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বার্তার সুর শোনা গেল বিরোধী দলের আসন থেকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman) নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ আহমেদ (Hafiz Ahmed) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (Kaiser Kamal)-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদ একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকের এই সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ।” তার ভাষায়, দেশের জনগণ এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সংসদের কাছে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রত্যাশা করছে।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন নতুন স্পিকার দায়িত্ব পালনে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকবেন। সরকারি ও বিরোধী দল—দুই পক্ষের প্রতিই সমান দৃষ্টিতে তাকাবেন বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, সংসদ তখনই কার্যকর হয়ে ওঠে যখন সেখানে সকল পক্ষ সমানভাবে কথা বলার সুযোগ পায় এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে স্পিকারকে ‘লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, “আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন।” এরপর স্পিকারের কাছ থেকে শুধু ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে তিনি ইংরেজিতে উচ্চারণ করেন—“উই ওয়ান্ট জাস্টিস”—এভাবেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।
এদিন সংসদে উপস্থিত সদস্যদের ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) তাদের পৃথকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন।
পরে একই প্রস্তাবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও সমর্থন আসে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান।
বেলা ১১টার কিছু পর শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নতুন সংসদের যাত্রা শুরুর এই দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে প্রত্যাশা, সতর্ক বার্তা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


