জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার লক্ষ্যে দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় চেয়ারম্যানের কাছে এই পদত্যাগপত্র পাঠান। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগপত্রে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল লিখেছেন, তিনি জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা তার সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সেই কারণে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক পদসহ দলের সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন।
তার এই পদক্ষেপকে সংসদের সাংবিধানিক চর্চা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার পর দলীয় পদ ছাড়ার এই প্রথা বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে আগে থেকেও দেখা গেছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় বিষয়টি নিজেই জানান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। স্পিকারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি তুলে ধরেন।
ফলে একই দিনে সংসদের দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিএনপির দুই নেতা দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।


