রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে ওয়াকআউট—নাহিদকে ‘জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি’ প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ হামিমের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) সংসদে ভাষণ দেওয়া শুরু করলে তা ঘিরে আপত্তি জানিয়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় একাধিক সংসদ সদস্য। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam), যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)-এর আহ্বায়ক এবং সংসদ সদস্য।

ওয়াকআউটের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি প্রশ্ন ও সমালোচনা। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতির অঙ্গন থেকে এসেছে কড়া প্রতিক্রিয়া। ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম (Sheikh Tanvir Bari Hamim) সরাসরি নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন—আজ যে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে ওয়াকআউট করা হচ্ছে, সেই একই রাষ্ট্রপতির সামনেই তো উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দীন হলের ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হামিম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে আনেন।

পোস্টে হামিম লিখেছেন, ২০২৪ সালে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) সহ অন্যান্য উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গভবনে। সেই অনুষ্ঠানেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন নাহিদ ইসলামসহ সকল উপদেষ্টাকে।

তার প্রশ্ন—যদি আজ রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে এত আপত্তি থাকে, তাহলে সেদিন কেন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি? সেই সময় কি “জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি” হয়নি?

হামিম আরও দাবি করেন, বরং আজ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওয়াকআউট করে জুলাইয়ের রক্তস্নাত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ও অভিপ্রায় ছিল, তার সঙ্গেই নাহিদ ইসলামরা গাদ্দারি করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) সহ বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

একই সময় ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসনে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং অধিবেশনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সংসদের ভেতর-বাইরের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামিমের প্রশ্নকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *