চব্বিশের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্য হ’\ত্যার অভিযোগে মামলা করার আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sajib Bhuiyan) সহ মোট ৪২ জনকে আসামি করার প্রস্তাব ছিল। তবে অভিযোগপত্র পর্যালোচনা শেষে সেটি আমলে নেয়নি আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Chief Metropolitan Magistrate Court, Dhaka)-এ মামলার আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক রৌনক জাহান তাকি (Rounok Jahan Taki) অভিযোগের বিষয়বস্তু শুনে ও নথি পর্যালোচনা করে মামলাটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত দেন।
মামলার আবেদনকারী ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাংগিরাই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেকের ছেলে জালাল হোসেন। তার দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য হ’\ত্যার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizens Party)–এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হোক।
আবেদনে মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসউদ, উমামা ফাতেমা, রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরীসহ আরও অনেকে। তবে আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পর্যালোচনা করে তা আমলে নেয়নি।
এদিকে মামলার আবেদন ঘিরে আলোচনার মধ্যে সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের (Abdul Kader) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লিখেছেন, পুলিশ হ’\ত্যা মামলার আবেদনে তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছিল। এর একটি মামলায়ও তিনি দ্বিতীয় আসামি ছিলেন এবং সে মামলায় তাকে কারাভোগও করতে হয়েছিল। নতুন করে নাম আসার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন— “এবার কপালে কী আছে, আল্লাহ মাবুদই ভালো জানেন!”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। এরপর ৮ আগস্ট ড. ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সেই অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে শ্রম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। তবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
বর্তমান মামলার আবেদনটি আদালত আমলে না নিলেও ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


