দেশের জ্বালানি খাতে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে সুখবর দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)। তিনি জানিয়েছেন, বহু প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant) থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “আগামী ৭ এপ্রিল থেকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফুয়েল লোডিং’ কার্যক্রম শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, প্রকল্পের একটি ইউনিট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্ণ সক্ষমতায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন (Planning Commission) ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলেকজান্ডার খোজিন (Alexander Khozin)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। খোজিন বাংলাদেশে রাশিয়া (Russia)-এর রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়ার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আলোচনায় দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় গ্রিডে নতুন উৎস থেকে বিদ্যুৎ সংযোজনকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরকার সব ধরনের সম্ভাব্য পথ বিবেচনায় নিচ্ছে। স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি কীভাবে এগোয় তা দেখেই ভবিষ্যতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড় প্রকল্প—বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র—চলমান থাকলেও জ্বালানি খাতের সার্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে এবং নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎস দ্রুত যুক্ত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।


