যুদ্ধের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪ দিনে ভিড়েছে ১৫ জ্বালানি জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও এই সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে তেল ও গ্যাস বোঝাই একাধিক জাহাজ পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত ১৪ দিনে বন্দরে মোট ১৫টি জাহাজ ভিড়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port)-এর ভেসেল অ্যারাইভাল লগ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাসবাহী এসব জাহাজ পর্যায়ক্রমে বন্দরে আসে। এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল, ফার্নেস তেল, এমইজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রথম দিকে কাতারের রাস লাফান এলাকা থেকে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। এরপর ‘আল গালায়েল’ এবং ‘লুসাইল’ নামের আরও দুটি এলএনজি জাহাজ ১০ ও ১১ মার্চ বন্দরে পৌঁছায়।

এদিকে ওমানের সোহর বন্দর থেকে ‘এলপিজি সেভান’ নামের একটি জাহাজ ৮ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় আসে। একই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে ৫ হাজার ১৯ টন মনো-ইথিলিন গ্লাইকল নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ ৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছায়।

জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের মধ্যেও রয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘শিউ চি’ নামের একটি জাহাজ, যা প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে ১০ মার্চ বন্দরে নোঙর করে। এছাড়া এলএনজি ও এমইজি বোঝাই আরও দুটি জাহাজ একই সময় বন্দরে এসেছে।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুর থেকে আসা দুটি জাহাজে মোট প্রায় ৪০ হাজার টন ফার্নেস তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘মর্নিং জেন’ নামের আরেকটি জাহাজও এই সময়ের মধ্যে বন্দরে এসে ভিড়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন কিছুটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যেই বেশ কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এতে আপাতত জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *