বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস (Mirza Abbas)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক শারীরিক জটিলতার পর রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে জানান, রবিবার সকাল ১১টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। এই যাত্রায় তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল (Evercare Hospital)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন মির্জা আব্বাস। জানা গেছে, শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং এরপর থেকেই তাকে চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শনিবার সকালে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানও করা হয়।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ পরীক্ষার প্রতিবেদন সন্তোষজনক এসেছে। তবে চিকিৎসকরা এখনও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রথমে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে জটিলতার লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুই ধাপে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মেডিকেল বোর্ড।
এদিকে তারেক রহমান (Tarique Rahman), যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, নিয়মিতভাবে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে আসেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) সহ বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।
শুধু বিএনপি নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে তার শারীরিক অবস্থার। ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman), যিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির, তিনিও হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী শুক্রবার থেকেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পর অবশেষে রবিবার সকালে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।


