দেশের রাজনীতিতে নতুন এক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন নাঈম আহমাদ (Naeem Ahmad)। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (United Peoples Bangladesh)—সংক্ষেপে আপ বাংলাদেশের সদ্য সাবেক প্রধান সংগঠক এই নেতা নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের কথা জানিয়েছেন। দলের নাম রাখা হয়েছে ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ (Justice and Democracy Party), সংক্ষেপে জেডিপি।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। বক্তব্যে নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ (Awami League) ও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি ‘ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তি’র কার্যত অবসানের ফলে এই শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, কিছু ইসলামপন্থী দল সাময়িকভাবে সেই জায়গা পূরণের চেষ্টা করলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী মূলধারার রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার, যা প্রচলিত দলগুলোর বাইরে নতুন বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
নাঈম আহমাদ বলেন, জনগণের মধ্যে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর বাইরেও একটি বিকল্প রাজনৈতিক বলয়ের প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি জানান, জেডিপির রাজনৈতিক অবস্থান হবে মধ্যপন্থা থেকে মধ্য-ডানপন্থার মধ্যে। দলের ভাবাদর্শ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—বাংলাদেশপন্থা, সংস্কারপন্থা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতায় সামাজিক গণতন্ত্র।
নতুন দলের কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। জেডিপির অগ্রাধিকারমূলক ১২ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—ধর্মীয় মূল্যবোধের সুরক্ষা, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশকে নিরাপদ রাখা, পানি, প্রাণী ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া বিনামূল্যে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সর্বজনীন চিকিৎসাসেবা, ন্যায্য ও পাচারমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও নতুন শিল্পখাতের উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষাকেও দলের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাঈম আহমাদ জানান, আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সেই সময় থেকেই জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ততদিন পর্যন্ত তিনি নিজেই জেডিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান। তার ভাষায়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই জাতীয় দলিল বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে নাঈম আহমাদ অভিযোগ করেন, জুলাই গ’\ণহ’\ত্যা’\য় দলটির সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “অবিলম্বে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হবে এবং আইন করে দলটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের আশ্রয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, তা কি বাতিল করা হয়েছে? যদি বাতিল না হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশকে কি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে?”
নাঈম আহমাদ আরও বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে অনেক মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছিল। এখন আবার ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে একই ধরনের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা জরুরি।
তিনি বলেন, “কেউ যদি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট অপরাধের অভিযোগ বা মামলা না থাকে, তাহলে তার ওপর কোনো জুলুম করা যাবে না। তাকে অন্য নাগরিকদের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির একাধিক সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নজরুল ইসলাম, মো. আহছান উল্লাহ, সাদমান আলম, নাকিবুর রহমান, ইমরান হোসেন রাহাত, মুত্তাকী বিন মনির, নূরা জেরিন, নাজমুন নাহার, আবুল বাশার, রাকিব হাসান, আসাদ মৃধা, অ্যাডভোকেট রুবেল ইসলাম খান, শেখ সাদী, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইমরান হোসাইন, জিহাদ আরাফাত এবং এরশাদ আলীসহ আরও অনেকে।


