সারাদেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ, সংসদে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সমাজে বাড়তে থাকা চারিত্রিক অবক্ষয় ঠেকাতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সারাদেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন (A N M Ehsanul Haque Milon)।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়। দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

রোববার বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)-এর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের সামাজিক বাস্তবতায় নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনকে শক্তিশালী করতে এবং নৈতিকতার ভিত্তি মজবুত করতে সরকার এই বড় নিয়োগ কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে।

একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকেও নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (SM Jahangir Hossain)-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দেশের উচ্চশিক্ষা পরিস্থিতি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ (Bangladesh)-এ মোট ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সরকার আপাতত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ভবিষ্যতে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গেও ইতিবাচক বার্তা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার শিগগিরই নতুন করে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করবে। তবে আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলো বাতিল করা হবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেসব পুরোনো আবেদন পুনরায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলেও রোববার থেকেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু হয়েছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করার জন্য মোট ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংসদ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *