শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক—নতুন যোগ্যতার মানদণ্ড জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নেতৃত্বে কারা আসবেন—সেই প্রশ্নে নতুন একটি ন্যূনতম মানদণ্ডের কথা জানালেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (Dr. A N M Ehsanul Haque Milon)। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া কিংবা গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) ডিগ্রি থাকতে হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষামন্ত্রণালয় (Ministry of Education) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন কাঠামোকে আরও দক্ষ ও যোগ্য মানুষের হাতে তুলে দিতে সরকার এই ন্যূনতম যোগ্যতার সীমা নির্ধারণ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছি। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বেসলাইন হবে স্নাতক ডিগ্রি। তবে আমরা শুধু এই যোগ্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছি না। একজন ব্যক্তির সামগ্রিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকর রাখতে কেবল আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই নীতিমালায় এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে যোগ্য ও দক্ষ মানুষদেরই নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসার সুযোগ থাকবে।

বিগত সরকারের সময়কার বিধান প্রসঙ্গেও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, আগে অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পেশাগত শর্তের কারণে সুযোগ সীমিত হয়ে যেত। তিনি বলেন, “আগের নিয়মে বলা হতো—গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট হতে হলে সিনিয়র শিক্ষক বা হেডমাস্টার হতে হবে। এর ফলে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণের সুযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় নানা ক্ষেত্রে নেপোটিজম ও ফেভারিটিজমের অভিযোগও সামনে আসত এবং এসব বিষয় সবসময় নিরপেক্ষভাবে আলোচিত হতো না। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে যোগ্যতা, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “আমরা চাই একটি ন্যায্য ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যেখানে যোগ্য মানুষরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত হতে পারবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও সঠিকভাবে পরিচালিত হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *