এক মাসে তারেক রহমান সরকারের পথচলা: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি?

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এক মাস পূর্তি আজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠন করে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছেন তিনি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনরারম্ভ ঘটে। ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বিএনপি। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই দিনে শপথ গ্রহণ করেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও। প্রচলিত নিয়ম ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় এই শপথ অনুষ্ঠান, যা ছিল এক ব্যতিক্রমী আয়োজন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নয়, ব্যক্তিগত আচরণেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। ভিভিআইপি প্রটোকল পরিহার করে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করার সিদ্ধান্ত অনেকের নজর কাড়ে।

নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় সরকারকে। বিএনপির ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে শুরুতে নানা বিতর্ক থাকলেও ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা সংশয় অনেকটাই দূর হয়।

১৪ মার্চ ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানির উদ্যোগ চালু করা হয়। এর ফলে দেশের হাজার হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির, বিহার ও গির্জার সেবাকর্মীরা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় আসেন।

দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ১৬ মার্চ দিনাজপুর (Dinajpur)-এর কাহারোল উপজেলা (Kaharole Upazila) থেকে ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিও বাস্তবায়নের পথে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখে দেশের আটটি জেলার নয়টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু নির্বাহী কার্যক্রমেই নয়, সংসদীয় কার্যক্রমেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ নেতা হিসেবে নিয়মিত উপস্থিতি এবং মন্ত্রীদের অংশগ্রহণ সংসদকে জবাবদিহিতার কার্যকর মঞ্চ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *