পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথজুড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও যাত্রীর চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, তবে আশার কথা—এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের যানজট বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। সামগ্রিক পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত এবং স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন (Kamalapur Railway Station) থেকে গতকাল অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময় মেনে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়, তবে শিডিউল ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। একই চিত্র দেখা গেছে নৌপথেও। সদরঘাট (Sadarghat) থেকে ৭০টির বেশি লঞ্চ ছেড়ে গেছে, যেগুলোর প্রতিটিই ছিল পূর্ণ যাত্রীতে ভরা।
আকাশপথেও যাত্রীর চাপ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত বেশ নির্বিঘ্ন রয়েছে।
এর আগে সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম (Sheikh Robiul Alam) জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। এত বিশাল জনচাপ সামাল দেওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে আগাম প্রস্তুতির কারণে যাত্রীরা স্বস্তি নিয়েই ভ্রমণ করতে পারছেন।
উত্তরাঞ্চলের ২২ জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী যমুনা সেতু (Jamuna Bridge) মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ রয়েছে, কিন্তু কোথাও যানজট তৈরি হয়নি। সেতু কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। একইভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (Dhaka-Chattogram Highway) এবং পদ্মা সেতু (Padma Bridge) এলাকাতেও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। টোল প্লাজাগুলোতেও যাত্রীদের তেমন ভোগান্তি হয়নি।
ফেরিঘাটগুলোতেও চাপ থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট রুটে যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। রেলপথে ভিড় থাকলেও শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। মঙ্গলবার মোট ৬০টি ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে, যার মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন। বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেনও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে টিকিট যাচাই করা হচ্ছে।
নৌপথে ঈদের আমেজ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সড়কের সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে অনেক যাত্রী এখন আকাশপথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে ১৭ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রায় সব ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে বিভিন্ন এয়ারলাইনস প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাত হাজার যাত্রী পরিবহন করছে। বিশেষ করে সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী রুটে চাহিদা বেশি। ঈদের পর কক্সবাজারগামী টিকিটের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে।
সবকিছু মিলিয়ে, বিপুল যাত্রীর চাপ সত্ত্বেও এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক, সুশৃঙ্খল এবং বড় ধরনের কোনো বিভ্রাট ছাড়াই এগিয়ে চলছে।


