পর্যটন ভিসা ব্যবহারে কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য ব্যবহৃত বি১/বি২ ভিসা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকা (U.S. Embassy Dhaka)। দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে ভিসাধারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এই ভিসা ব্যবহার করে কোনো ধরনের চাকরি বা শিক্ষাগত কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নির্দেশনায় বিশেষভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, কেউ যদি এমন কাজে জড়িত থেকে ধরা পড়েন, তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে।

এছাড়া বি১/বি২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো পারফরম্যান্স বা পেশাগত কাজও এই ভিসার আওতায় পড়ে না।

শিক্ষাগত ক্ষেত্রেও রয়েছে স্পষ্ট বিধিনিষেধ। এই ভিসা ব্যবহার করে কোনো ডিগ্রি অর্জন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হয়ে একাডেমিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করতে হলে শিক্ষার্থী ভিসা—এফ-১ বা এম-১—গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনেকেই স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত মনে করলেও নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এ ধরনের শিক্ষাও এই ভিসার আওতায় অনুমোদিত নয়।

ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গ করলে শুধু বর্তমান ভিসা বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা নতুন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বের ভিসা লঙ্ঘনের রেকর্ড ভবিষ্যৎ আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

অতএব, যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ভিসার শর্তাবলি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটন, স্বল্পমেয়াদি সফর, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ—এসব উদ্দেশ্যেই কেবল বি১/বি২ ভিসা ব্যবহার করা যাবে।

সবশেষে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ভিসা শুধুমাত্র ভ্রমণ ও অস্থায়ী সফরের জন্য প্রযোজ্য। এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা ভিসাধারীর নিজস্ব দায়িত্ব। নিয়ম লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যতের ভিসা সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *