তেহরান যদি কাতারে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক ক্ষুব্ধ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আবারও কাতারের ‘রাস লাফান’ গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি প্রয়োগ করবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তার ভাষায়, “সমগ্র ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্রটি এমন তীব্রতায় উড়িয়ে দেওয়া হবে, যা ইরান এর আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেনি।”
এই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণ আগেই কাতারের ‘রাস লাফান’ গ্যাসক্ষেত্র দ্বিতীয়বারের মতো হামলার শিকার হয়। বুধবার ইরান কাতারের দিকে পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে চারটি মাঝপথেই প্রতিহত করা সম্ভব হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করে এবং গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) স্থাপনাগুলোর একটি এই ‘রাস লাফান’। সেখানে হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) তাদের একটি জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে চলমান সংঘাতের অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্র, যা বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি এবং ইরান ও কাতার যৌথভাবে এর সঙ্গে যুক্ত—এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে আসছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে সরাসরি সামরিক হুমকি, অন্যদিকে জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।


