মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, হাজারো মেরিন মোতায়েনের তৎপরতা

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ভূখণ্ডে সেনা পাঠাতে পারে—এমন জল্পনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদারের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে হাজার হাজার মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ২,২০০ মেরিন সদস্য নিয়ে গঠিত ‘১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ (MEU) বুধবার সান ডিয়েগো থেকে উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ‘ইউএসএস বক্সার’-এ করে যাত্রা শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স (Reuters)।

তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে নারাজ মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা ‘দ্য হিল’ পত্রিকাকে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ভবিষ্যৎ বা সম্ভাব্য কোনো সেনা চলাচল নিয়ে মন্তব্য করেন না।

একইভাবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যৎ সেনা বিন্যাস বা অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের জল্পনা করতে চায় না এবং নির্দিষ্ট অপারেশন এলাকার বাইরের কোনো সেনা চলাচল নিয়েও আলোচনা করবে না।

এর আগে জাপানভিত্তিক জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’-তে চড়ে আরও ২,২০০ মেরিন ও নৌসেনার একটি ইউনিট ওই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ জাহাজটি দক্ষিণ চীন সাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এতে ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’-এর সদস্যরা রয়েছেন, যারা স্থল ও আকাশ—উভয় ধরনের সামরিক অভিযানে সক্ষম।

এই সবকিছু ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রকাশ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর দাবি অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না।”

তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা কিছু করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।”

যদি ‘ইউএসএস বক্সার’ ও ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছায়, তাহলে তারা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই গ্রুপ ইতোমধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন বোমা হামলা অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ জাহাজটিকেও ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেটিকে মেরামতের জন্য ক্রিট দ্বীপে পাঠানো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা দ্রুত বাড়ছে—যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *