শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই ফিতরার নামে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক হন জামায়াতের দুই কর্মী, যদিও পরে প্রশাসন তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝিনাইগাতী (Jhenaigati) উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকার ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ঘাঘড়া মন্ডলপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক এবং একই এলাকার মুরাদ মিয়া বাবু।
ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন। পরে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করায় এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডকে ফিতরার টাকা বিতরণ বলে দাবি করায়, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রহিমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থগিত হওয়া এই আসনে নতুন করে তফসিল ঘোষণার পর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন প্রার্থীদের সমর্থকরা।
অভিযোগ উঠেছে, ঈদের দিন সন্ধ্যায় ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায় ফিতরার নামে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর ঝিনাইগাতী উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজ আলী বলেন, “ফিতরার টাকা ঈদের জামাতের আগেই দেওয়া হয়—এটাই নিয়ম। কিন্তু ঈদের রাতে টাকা বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে, যা অনৈতিক।”
একই দলের স্থানীয় নেতা হারুনুর রশিদও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং পরে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তার মতে, নির্বাচনে টাকার প্রভাব সুষ্ঠু ভোটের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে জেলা জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান দাবি করেন, এটি ছিল ফিতরার টাকা এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিত।
শেরপুর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি অবৈধ টাকার ব্যবহার বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার না করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান টিমকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
শেরপুর (Sherpur) জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


