ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির হ’\ত্যা মামলায় নতুন করে মোড় নিয়েছে তদন্ত। এবার মামলার দায়িত্ব নিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (NIA), যা ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।
গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রধান অভিযুক্ত—ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছিল এনআইএ। একটি বিশেষ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইন ইউএপিএর ১৬ ও ১৮ ধারা যুক্ত করার আবেদনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আদালত থেকে জেলে ফেরানোর পথে ফয়সাল গণমাধ্যমকে দাবি করে, সে ওসমান হাদি হ’\ত্যায় জড়িত নয়। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কোথাও দেখাতে পারবেন না আমি হাদিকে সরাসরি গুলি করেছি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
ফয়সাল আরও বলে, ‘আমি ওই সময় বাংলাদেশে ছিলাম। অবশ্যই আমাকে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে। কিন্তু আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’
সে বলে, ‘আপনারা এত হাদি হাদি করছেন। বাংলাদেশের মানুষ এত হাদি হাদি করছে। কে ও? ও তো জামায়াতেরই একটা জঙ্গি।’
পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর আদালতে হাজির করার পর ফয়সাল ও আলমগীরকে ১২ দিনের কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল আবার তাদের আদালতে তোলা হবে। হাজিরার আগে বিধাননগর পুলিশ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন করে।
আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল আবারও দাবি করে, “আমি এই কাজ করিনি, আমি এতে জড়িত নই।” তার কথায়, ‘এটা জামায়াত-বিএনপি’র চাল হতে পারে। এসময় সাংবাদিকরা জামায়াতের কে জড়িত এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি। ।’ তবে এসটিএফ সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ওসমান হাদিকে হ’\ত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মোটরসাইকেলে এসে গু’\লি করে হামলা চালানো হয়। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই মোটরসাইকেলে ফয়সাল ও আলমগীরই ছিলেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ মার্চ নদিয়ার শান্তিপুর বাইপাস এলাকা থেকে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি দালালকেও গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালাতে ফয়সালদের সহায়তা করেছিল সে।


